আলবানি, নিউইয়র্ক: আলবানি সিটি ও আলবানি কাউন্টির মধ্যে ক্যামেরা-ভিত্তিক ট্রাফিক টিকিট ইস্যুতে নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে। কাউন্টি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, সিটি ট্রেজারার ডারিয়াস শাহিনফার টিকিট আদায়ে বৈষম্যমূলক নীতি প্রয়োগ করছেন, যা সংবিধানের “ডিউ প্রসেস” বা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
কাউন্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিটি পার্কিং ভায়োলেশনস ব্যুরোর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত প্রতিটি টিকিটের পূর্ণ জরিমানা আদায় করা হয় না; বরং একটি সমন্বিত বা ছাড়ের ভিত্তিতে নিষ্পত্তির সুযোগ থাকে। সেই নিয়ম অনুসরণ করেই গত বছরের মাঝামাঝি থেকে সিটি ও কাউন্টির মধ্যে আলোচনা চলছিল এবং একটি মৌখিক সমঝোতাও হয়েছিল।
কিন্তু সম্প্রতি কাউন্টি যখন নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের জন্য চেক পাঠায়, সেটি ফেরত দেওয়া হয়। কাউন্টিকে জানানো হয়, তাদের ক্ষেত্রে ওই ‘স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস’ প্রযোজ্য হবে না এবং সব বকেয়া টিকিটের পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। শুধু তাই নয়, ওই টিকিটগুলো চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
কাউন্টি প্রশাসনের দাবি, “এটি শুধু অন্যায্যই নয়, বরং সংবিধানের ডিউ প্রসেস ক্লজের সরাসরি লঙ্ঘন।” তাদের মতে, একই ধরনের অপরাধে ভিন্ন ভিন্ন পক্ষের জন্য ভিন্ন নিয়ম প্রয়োগ করা হলে তা ‘ইক্যুয়াল প্রোটেকশন’ বা সমান আইনি সুরক্ষার নীতির বিরোধী।
এদিকে, ক্যামেরা পরিচালনা সংক্রান্ত আইন প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সিটি কর্তৃপক্ষ স্কুল জোনে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ক্যামেরা চালু রাখছে, অথচ আইনে বলা হয়েছে স্কুল কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত এক ঘণ্টা পর্যন্ত এই নিয়ম কার্যকর থাকবে—যা প্রতিদিন ভিন্ন হতে পারে।
আরও জটিলতা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন স্কুলের আলাদা ক্যালেন্ডার ও কার্যক্রমের কারণে। কোনো স্কুলে ছুটি থাকলেও পাশের স্কুলে কার্যক্রম চলতে পারে। এ অবস্থায় চালকদের জন্য সঠিক তথ্য কোথায় ও কীভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে—সে প্রশ্নও তুলেছে কাউন্টি।
কাউন্টির ভাষ্য, “একই রাস্তায় চলার সময় একজন চালক বুঝতেই পারবেন না কোথায় আইন প্রযোজ্য আর কোথায় নয়। এই ধরনের অস্পষ্টতা নাগরিকদের জন্য বিভ্রান্তিকর এবং অন্যায্য।”
এই ইস্যুতে সিটি ট্রেজারারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছে আলবানি কাউন্টি, যাতে করদাতাদের স্বার্থ রক্ষা পায় এবং আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয়।
