নিউজ আলবানি ডেস্ক ।। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্ক স্টেটের রাজধানী আলবানিতে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, নারীর ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সমাজ এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে উঠতে পারেনি। আধুনিক ও উন্নত শহর নিউইয়র্কে নারীদের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি যেমন চোখে পড়ে, তেমনি বাস্তব জীবনে অনেক ক্ষেত্রে তারা এখনও উপেক্ষা ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের নিবিড় মনোযোগ ও আন্তরিক উদ্যোগ জরুরি বলে বক্তারা মত প্রকাশ করেন।
সমাজ ও সংস্কৃতি চর্চার সংগঠন “সবুজ সভা” এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। নারী ও মানবাধিকার সংগঠক, ক্রিটিক ও নিউজ আলবানি সম্পাদক এবং সবুজ সভার উদ্যোক্তা লাইলা খালেদা অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে ক্রিটিক ও নিউজ আলবানি’র প্রধান সম্পাদক আদিত্য শাহীন বলেন, নারী দিবস কেবল একটি প্রতীকী দিন নয়; এটি সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীর অধিকার, সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি নতুন অঙ্গীকারের দিন। তিনি বলেন, “একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে হলে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।”
স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসর মো. মিজানুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, শিক্ষা ও সচেতনতার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, নারীকে সমাজের উন্নয়নের মূল ধারায় যুক্ত করতে হলে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক কাঠামোর মানসিক পরিবর্তন জরুরি।
নিউজ আলবানির শিল্প সম্পাদক ও চিত্রশিল্পী কাজি কিবরিয়া বলেন, শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলে এবং নারীর প্রতি সম্মান ও সংবেদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাকিয়া নিজাম বলেন, নারী শুধু পরিবার নয়, সমাজ ও সংস্কৃতির ধারকও। তাই সমাজে নারীর সৃজনশীল অবদানকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।
প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও শিক্ষক কানিজ সালমা বলেন, শিল্প ও শিক্ষার মাধ্যমে নারীর আত্মবিশ্বাস এবং আত্মপ্রকাশের সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংস্কৃতি কর্মী ও সংগঠক তাহমিনা সোনিয়া বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য দূর করতে সামাজিক সচেতনতা এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা বাড়ানো দরকার।
নিউইয়র্ক স্টেটের শ্রম বিভাগের কর্মকর্তা রেহানা পারভীন কর্মক্ষেত্রে নারীর সমঅধিকার ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে নীতিগত সহায়তা ও সামাজিক সমর্থন অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি সংগঠক ওয়াহিদুজ্জামান, মুনা জামান, রেদোয়ান আহমেদ, সানজিদা, মামুন রাসেল, নিউজ আলবানি ও ক্রিটিকের কারিগরি সম্পাদক রাশতাব মাহমুদ, কমিউনিটি সংগঠক ফারহানা হাসান এবং ইউনিভার্সিটি অ্যাট আলবানির পিএইচডি গবেষক রিয়াজুল ইসলাম। তারা নারীর শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং নেতৃত্বে অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস শুধু উদযাপনের বিষয় নয়; এটি সমতা, ন্যায় এবং মানবিক মর্যাদার লড়াইকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। সমাজে নারীর মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি সুস্থ, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে।
