ফারহানা হাসান॥ নিউইয়র্ক স্টেটের রাজধানী আলবানির ক্যাপিটল ভবনের সামনে বুধবার সহস্রাধিক মানুষ সমবেত হয়ে ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধি করার দাবিতে জোরালো অবস্থান নেন। সমাবেশকারীরা গভর্নর ক্যাথি হোকুল এর প্রতি আহ্বান জানান, রাজ্যের অতি ধনী ব্যক্তি ও বৃহৎ করপোরেশনগুলোর ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, গণপরিবহন ও সাশ্রয়ী আবাসনের মতো খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি–এর প্রস্তাবিত প্রগতিশীল কর্মসূচির প্রতিও সমর্থন জানান অনেকেই।
সমাবেশে ডিআরইউএম (ড্রাম- Desis Rising Up and Moving)–এর সদস্যরা সংগঠনের সংগঠক রওশন আরা নিপার নেতৃত্বে হাজারো নিউইয়র্কবাসীর সঙ্গে যোগ দেন। তাদের বক্তব্যে বলা হয়, নিউইয়র্কের প্রতিটি মানুষের মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকা, উন্নতি করা এবং পরিবারের যত্ন নেওয়ার অধিকার রয়েছে। একটি সত্যিকারের সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নিউইয়র্ক গড়তে সাহসী নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, অতিধনী ব্যক্তি ও বৃহৎ করপোরেশনগুলোর ওপর ন্যায্য কর আরোপ করা হলে রাজ্য সরকার বিনামূল্যে বাস সার্ভিস, সার্বজনীন শিশু যত্ন, বিস্তৃত স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী আবাসন, গ্রন্থাগার ও স্কুল উন্নয়নের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারবে যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করবে।
এই সমাবেশ এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো যখন রাজ্য বাজেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। আয়োজকদের আশা ছিল, ব্যাপক জনসমাগম রাজ্য আইনপ্রণেতাদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেবে যে আয় বৈষম্য কমাতে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন। যদিও গভর্নরের দপ্তর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কর বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো নতুন ঘোষণা আসেনি, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বিষয়টি সামনে আরও আলোচিত হবে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরেও এ ইস্যুতে মতভেদ রয়েছে এক অংশ মনে করে ধনীদের ওপর কর বাড়ানো সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে, অন্য অংশের আশঙ্কা এতে ব্যবসা ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, এটি কেবল একটি দিনের সমাবেশ নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত পরিবর্তনের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ। তাদের মতে, রাজ্যের অর্থনৈতিক নীতিতে পরিবর্তন এনে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য বাস্তব সহায়তা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। সামনে বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় এই জনমতের প্রতিফলন ঘটে কিনা, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
