নিউ ইয়র্ক সিটি জুড়ে চলমান তীব্র শৈত্যপ্রবাহে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন নগর কর্তৃপক্ষ। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র জানান, এই অবিরাম শীতের আজ ১৩তম দিন চলছে, যা সিটির সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মেয়রের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি মেয়র লায়লা বোজার্গ, প্রধান জলবায়ু কর্মকর্তা লুইস ইয়াং, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডোনোভান রিচার্ডস, সিটি কাউন্সিল মেম্বার সিলভিনা ব্রুকস-পাওয়ার্স, টেন্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন প্রেসিডেন্ট ইউজিনিয়া গিবসন এবং এনওয়াইসিএইচএ’র সিইও লিসা বোভাহায়া।
মেয়র জানান, ১৯ জানুয়ারি সোমবার থেকে ‘কোড ব্লু’ প্রোটোকল চালু হওয়ার পর থেকে শহরের আউটরিচ টিম ও কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছে। এ পর্যন্ত ১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও গৃহহীন নিউ ইয়র্কবাসীকে আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এছাড়া, নিজেদের কিংবা অন্যদের জন্য বিপজ্জনক বলে বিবেচিত ২০ জন নিউ ইয়র্কবাসীকে অনিচ্ছাকৃতভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। লোয়ার ম্যানহাটনে ১০৬ শয্যার একটি নতুন নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র খোলার ঘোষণাও দেয় সিটি প্রশাসন, যা বিশেষ করে সম্মিলিত আশ্রয়ে থাকতে অনিচ্ছুকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প।
তবে শীতের ভয়াবহতা তুলে ধরে মেয়র জানান, আজ সকাল পর্যন্ত ‘কোড ব্লু’ চলাকালীন ১৭ জন নিউ ইয়র্কবাসীর মৃত্যু হয়েছে বাইরে অবস্থানরত অবস্থায়। প্রাথমিক তদন্তে ১৩টি ক্ষেত্রে হাইপোথার্মিয়ার ভূমিকা পাওয়া গেছে। তিনটি মৃত্যু অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং একটি মৃত্যুর কারণ এখনও অজানা।
মেয়র বলেন, প্রতিটি মৃত্যুই হৃদয়বিদারক। যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, সেই পরিবারগুলোর প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, মৃত্যুর সময় কেউই গৃহহীনদের স্থায়ী শিবিরে বসবাস করছিলেন না।
বর্তমানে নিউ ইয়র্ক সিটি ২৪ ঘণ্টার জন্য ‘এনহ্যান্সড কোড ব্লু’ পরিস্থিতির আওতায় রয়েছে। নগর কর্তৃপক্ষ সকল নিউ ইয়র্কবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছে, কেউ বিপদে থাকলে যেন দ্রুত ৩১১ নম্বরে যোগাযোগ করা হয়।
